• 5 মিনিট পড়া

ED ও PE কেন হয়? শারীরিক কারণগুলো জানুন

কখনও কখনও যৌন সমস্যাই শরীরের ভেতরের অন্য সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে

কখনও কখনও যৌন সমস্যাই শরীরের ভেতরের অন্য সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে

ED বা PE নিয়ে কথা শুরু করলেই অনেকে প্রথমে মনে করেন, “সমস্যা নিশ্চয়ই মনের।” বাস্তবে তা সবসময় নয়। অনেক ক্ষেত্রে রক্তনালী, স্নায়ু, হরমোন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওষুধ বা আগের কোনো অপারেশনের সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। একজন চিকিৎসক এই বার্তাগুলো বুঝতে সাহায্য করতে পারেন।

ইরেকশন কীভাবে তৈরি হয়
ইরেকশন তৈরি হতে রক্তনালী, স্নায়ু, হরমোন এবং মস্তিষ্কের সংকেত একসঙ্গে কাজ করে। এই ব্যবস্থার কোনো একটি জায়গায় সমস্যা হলে ইরেকশন হওয়া বা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাই ED শুধু “ইচ্ছাশক্তি” বা “মনোবল” দিয়ে বিচার করার বিষয় নয়।

১. রক্ত চলাচল ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি
ED-এর বড় একটি কারণ রক্ত চলাচলের সমস্যা। পুরুষাঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছালে বা রক্ত ধরে রাখতে সমস্যা হলে ইরেকশন দুর্বল হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও ধূমপান এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে ED ভবিষ্যৎ হৃদ্‌রোগ বা রক্তনালীর সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই সমস্যা নতুনভাবে শুরু হলে বা বারবার হলে এটিকে শুধু যৌন সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

২. ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতা
ডায়াবেটিস রক্তনালী ও স্নায়ু - দুই জায়গাতেই প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ ও অতিরিক্ত ওজনও একইভাবে যৌনস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ED-এর ঝুঁকি কমানো এবং চিকিৎসার ফল ভালো করার সম্ভাবনা বাড়ে।

৩. হরমোন ও থাইরয়েড
টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্য হরমোনজনিত পরিবর্তন যৌন আগ্রহ, ইরেকশন ও বীর্যপাতের সময়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। PE যদি হঠাৎ নতুনভাবে শুরু হয়, তখন থাইরয়েড বা প্রোস্টেটের সমস্যাও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে।

৪. স্নায়ু, ইনজুরি বা অপারেশন
ইরেকশনের জন্য মস্তিষ্ক থেকে পুরুষাঙ্গ পর্যন্ত স্নায়ুর পথ ঠিক থাকা জরুরি। পেলভিক ইনজুরি, প্রোস্টেট বা পেলভিক সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি, স্ট্রোক বা স্পাইনাল সমস্যার পর ED দেখা দিতে পারে।

৫. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অনেক সময় সমস্যার পেছনে নিয়মিত খাওয়া কিছু ওষুধও ভূমিকা রাখতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন, ব্যথার ওষুধ বা প্রোস্টেটের ওষুধ যৌন কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সতর্কতা

নিজে নিজে কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধ বদলানো বা ডোজ কমানোর সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের।

ED ও PE একসাথে হতে পারে কী?
ED থাকলে অনেকেই মিলনের সময় তাড়াহুড়া করেন, কারণ মনে ভয় থাকে - ইরেকশন ধরে থাকবে কি না। এই চাপ থেকে দ্রুত বীর্যপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রে ED ও PE একসঙ্গে দেখা যায়।

কখন শারীরিক কারণ সন্দেহ করবেন
· আগে সমস্যা ছিল না, হঠাৎ শুরু হয়েছে
· ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা বা ধূমপানের ইতিহাস আছে
· নতুন কোনো ওষুধ শুরুর পর সমস্যা বেড়েছে
· পেলভিক অপারেশন, ইনজুরি বা রেডিয়েশন থেরাপির ইতিহাস আছে
· PE-এর সঙ্গে প্রস্রাবে জ্বালা, ব্যথা বা প্রোস্টেটের উপসর্গ আছে

শরীর যখন সংকেত দেয়, সেটি শুনুন। দ্রুত পরামর্শ নিলে কারণ বোঝা সহজ হয়, চিকিৎসাও বেশি নিরাপদ হয়।

এই ওয়েবসাইটের তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা প্রেসক্রিপশনের বিকল্প নয়। ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন

• 5 মিনিট পড়া

ED ও PE কী? জানুন সহজ ভাষায়

যৌন সমস্যা মানেই লজ্জা নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা

পড়ুন →

• 5 মিনিট পড়া

মনের অবস্থার প্রভাব: চিন্তা, দুশ্চিন্তা ও পারফরম্যান্স

শান্ত মন যৌনস্বাস্থ্যের বড় সহায়ক

পড়ুন →

• 5 মিনিট পড়া

দাম্পত্যে বোঝাপড়া: সম্পর্কের শক্তি যৌন জীবনে

ভালো যৌন জীবন শুরু হয় দুজনের কথোপকথন থেকে

পড়ুন →